কমলাপুর গ্রামের মানুষ পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর গ্রামের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাদেরকে আক্রমণ করলে যুদ্ধে কমলাপুর গ্রাম পরাজিত হয় এবং তাদের নেতা নিহত হন। এ পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলা এবং নেতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য কমলাপুরবাসী আবারো ইসলামপুর গ্রাম আক্রমণ করে। ফলে ইসলামপুর গ্রামের চেয়ারম্যান ইবনে আব্দুল্লাহ ৫০ জন তীরন্দাজকে নির্দেশ দেন, আমরা সবাই যুদ্ধে মারা গেলেও তোমরা এখান থেকে সরবে না। কিন্তু নেতার আদেশ অমান্য করার জন্য ইসলামপুরবাসী এ যুদ্ধে পরাজিত হন।
উদ্দীপকের ঘটনা আমার পাঠ্যপুস্তকের উহুদ যুদ্ধের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে।
মহানবি (স) মহান আল্লাহর নিকট ধৈর্যের যতগুলো পরীক্ষা দিয়েছিলেন তার মধ্যে উহুদ যুদ্ধ একটি। এটি মুসলমানদের জন্যও এক কঠোর অগ্নিপরীক্ষা ছিল। এ যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা পরবর্তীতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা অর্জন' করেছিল। ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের নিকট কুরাইশদের পরাজয় ঘটে। এ প্রেক্ষাপটে ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি এ যুদ্ধের ঘটনারই দৃষ্টান্ত বহন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কমলাপুর গ্রামের মানুষ পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর গ্রামের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয় এবং তাদেরকে আক্রমণ করে যুদ্ধে পরাজিত হয় এবং তাদের নেতাকে হারায়। তাই প্রতিশোধ নিতে তারা আবারও ইসলামপুর গ্রাম আক্রমণ করে। এ সংঘর্ষে নেতার নির্দেশ অবমাননার কারণে ইসলামপুরের পরাজয় ঘটে। উহুদ যুদ্ধের ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষণীয়। মহানবি (স) মদিনায় হিজরতের মাত্র দুই বছরের মধ্যে ইসলাম ধর্ম প্রসার লাভ করে। সেখানে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে কুরাইশগণ ভীষণভাবে ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে। ফলে কুরাইশগণ মুসলমানদের সাথে বদরের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এতে আবু জেহেলসহ বহু কুরাইশ নিহত হয় এবং তারা পরাজয় বরণ করে। ফলশ্রুতিতে কুরাইশরা প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য আবারও উদ্বুদের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এ যুদ্ধে মহানবি (স)-এর নির্দেশ অমান্যের কারণে মুসলমানদের সাময়িক পরাজয় ঘটে। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, উদ্দীপকের ঘটনা উদ্বুদের যুদ্ধের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?